![]() |
| বাজারে বড় ধস! Nifty 23,600-এর নিচে, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কি এখন ভয় পাওয়া উচিত? |
ভারতীয় শেয়ারবাজারে রক্তক্ষয়ী সেশন
ভারতীয় শেয়ারবাজারে গত ট্রেডিং সেশনে বড় ধরনের বিক্রির চাপ দেখা যায়। বেঞ্চমার্ক সূচক Nifty 50 প্রায় 1.5% পতন ঘটিয়ে 23,600-এর নিচে নেমে যায়, অন্যদিকে Sensex 1,000 পয়েন্টেরও বেশি হারিয়ে দিনের সমাপ্তি করে। বাজারের এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল বর্ষার পূর্বাভাস।
ভারতের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে কৃষি এবং গ্রামীণ চাহিদার উপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসতেই বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ আয় এবং ভোগব্যয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) ধারাবাহিক বিক্রিও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বৈশ্বিক বাজারে আশার আলো
দেশীয় বাজারে চাপ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম গত দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে ব্যারেল প্রতি 93 ডলারের নিচে চলে আসে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, উভয় দেশ 60 দিনের যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
তেলের দাম কমার অর্থ হলো বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কমে যায়। ফলে মার্কিন বাজার নতুন রেকর্ড উচ্চতায় বন্ধ হয় এবং এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও শক্তিশালী র্যালি দেখা যায়।
দিনের বাজারের পরিসংখ্যান
Nifty 50
পতন: 359 পয়েন্ট
ক্লোজিং: 23,547
পরিবর্তন: -1.5%
Sensex
পতন: 1,092 পয়েন্ট
ক্লোজিং: 74,775
পরিবর্তন: -1.4%
এই পতনের ফলে গত সপ্তাহের সমস্ত লাভ প্রায় মুছে গেছে এবং বাজার আবারও গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোনের দিকে এগোচ্ছে।
সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণ
বাজারের অধিকাংশ সেক্টর লাল চিহ্নে বন্ধ হলেও IT সেক্টর একটি ব্যতিক্রম ছিল।
IT সেক্টরের শক্তিশালী পারফরম্যান্স
আমেরিকায় তালিকাভুক্ত ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির ADR-এ জোরালো উত্থান দেখা যায়।
Wipro
SmartWorx-এর সঙ্গে AI পার্টনারশিপ ঘোষণার পর Wipro ADR প্রায় 18.5% লাফিয়ে ওঠে।
Infosys
Infosys ADR প্রায় 2.5% বৃদ্ধি পায়।
ফলে দুর্বল বাজারেও Nifty IT সূচক সবুজ রঙে বন্ধ হতে সক্ষম হয়।
বর্তমান সময়ে AI এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সংক্রান্ত ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধির কারণে IT সেক্টর আবারও বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে।
টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ
Nifty Outlook
Nifty দিনের শুরু থেকেই দুর্বল ছিল। প্রথম ঘণ্টায় 24,000-এর কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে ক্রমাগত বিক্রির চাপ দেখা যায়।
সূচকটি শেষ পর্যন্ত 23,500-এর নিচে নেমে যায় এবং দৈনিক ও সাপ্তাহিক চার্টে একটি শক্তিশালী Bearish Candle তৈরি করে।
গুরুত্বপূর্ণ স্তর
Support
23,400
23,200
Resistance
23,750
23,900
যতক্ষণ পর্যন্ত Nifty 23,700-এর নিচে অবস্থান করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্বলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
Sensex Outlook
Sensex-ও একই ধরনের দুর্বলতা প্রদর্শন করেছে।
সূচকটি টানা চার দিন Lower Low তৈরি করেছে, যা শর্ট-টার্ম ট্রেন্ডকে দুর্বল নির্দেশ করছে।
Support
74,300
74,000
Resistance
75,000
75,300
ডেরিভেটিভ বিশ্লেষণ
Nifty Futures 1.07% পতনের সঙ্গে 23,740 স্তরে বন্ধ হয়েছে।
শক্তিশালী সেটআপ দেখা যাচ্ছে
GMR Airport
Coforge
Sammaan Capital
Lodha
Radico Khaitan
Indus Towers
KPIT Technologies
Larsen & Toubro
HDFC AMC
Zydus Life
দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে
Bharat Dynamics
MCX
Bank of India
Ashok Leyland
Blue Star
LIC Housing Finance
ICICI Prudential
Cochin Shipyard
ONGC
Kaynes Technology
Option Chain কী বলছে?
Maximum Call OI
24,000
24,500
Maximum Put OI
23,000
23,800
Call Writing
24,000
23,900
Put Writing
23,800
23,700
Option Data অনুযায়ী বর্তমানে Nifty-এর বৃহত্তর ট্রেডিং রেঞ্জ 23,300 থেকে 24,300-এর মধ্যে থাকতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে 23,500 থেকে 24,000 জোন গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ হিসেবে কাজ করতে পারে।
আমার মতামত (Joy Mondal)
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে আমি আতঙ্কের নয়, বরং সুযোগের সময় হিসেবে দেখছি।
হ্যাঁ, স্বল্পমেয়াদে বাজারে চাপ রয়েছে। বর্ষা নিয়ে উদ্বেগ, FII বিক্রি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজারকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু একই সময়ে কয়েকটি ইতিবাচক বিষয়ও রয়েছে।
প্রথমত, তেলের দাম কমছে, যা ভারতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
দ্বিতীয়ত, AI এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের ধারা IT সেক্টরকে শক্তিশালী করতে পারে।
তৃতীয়ত, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্প এখনও অক্ষত রয়েছে।
আমার মতে, যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী, তাদের জন্য এই ধরনের সংশোধন (Correction) ধীরে ধীরে মানসম্পন্ন স্টক সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করে। তবে এককালীন বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ (SIP বা Staggered Buying) করা অধিক যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে আমি মনে করি।
উপসংহার
বাজার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দুর্বল বর্ষা, FII বিক্রি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে কমতে থাকা তেলের দাম, শক্তিশালী IT সেক্টর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে।
আগামী কয়েকটি সেশনে 23,500 স্তর Nifty-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই স্তর ধরে রাখতে পারলে বাজারে পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে, অন্যথায় আরও সংশোধনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনও বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করুন।
